Monday , May 20 2019
Breaking News
Home / শিক্ষা মূলক / গল্প / ভালোবাসার গল্প
ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার ছায়া

প্রিয়, জায়ান কেমন আছ?
আমি আর মৌমিতা ভালো আছি।আমরা কয়েক মাস আগে বান্দরবন এ সেটেল হয়েছি।তুমি তো জান আমাদের বিয়ে কেউ মেনে নিচ্ছিল না তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে এই চাকরি টা নিয়েছি।অনেকটা কেয়ারটেকারের মত। রাগ করোনা বন্ধু। মৌমিতার বাবা আর ভাই খুব ঝামেলা করছিলো। অনেকটা বাধ্য হয়েই এত দূরে চলে আসা। মৌমিতার সাথে একসাথে ঘর বাঁধবো বলে, এত দূর পথ চলা। তুমি কোথায়? একবার এসে আমাদের দেখে যাও। গ্রাম বলে অবহেলা করো না। এখানে সুবিধা অনেক।বাড়ির মালিক বাইরে থাকে এই বাড়িটা খালি পড়ে আছে এটার দেখাশোনা করতে হবে।আমাদের জন্য যা খুব প্রয়োজন ছিলো। কতটা অসহায় হয়ে আমরা এখানে এসেছি বুঝতেই পারছো।
এটি অনেক পুরনো দোতালা একটি বাড়ি।গ্রামের মধ্যে এটাই একমাএ দোতালা বাড়ি।বান্দরবন থেকে একটু ভিতের গেলে কাঁচা রাস্তা, গ্রামের নাম মধুপুর। ছোট ছিম ছাম একটা গ্রাম। লোকজন ও কম। ছোট একটা স্কুল আছে।আছে একটা ডাক্তারখানা। ডাক্তার রাফি আমাদের একজন ভালো শুভাকাঙ্ক্ষী। পুরোনো একটি ভাঙা মন্দির ও আছে। উঁচু উঁচু পাহাড় এর উপর দিয়ে যখন বৃষ্টি ভেঙে পরে তখন সবকিছু অপার্থিব মনে হয়। মনে হয় বেঁচে থাকাটা সার্থক।
একটা ছোট নদীও আছে নাম কুহেলী।বাড়িটা বিশাল। বিশাল বিশাল তার দরজা জানালা।বড় বড় গাছপালা যেনো বাড়িটাকে ঘিরে রেখেছে।আগের দিনের জমিদার বাড়ির মত।মোট ২৪ টা ঘর আছে। একটা বিশাল লাইব্রেরি আছে যা আমাদের অবসর সময়ের বিনোদন।আছে শান বাধানো একটা পুকুর।আমি, মৌমিতা আর একজন কাজের লোক আছে। আর আছে গ্রামের কিছু সাধারণ মানুষ।
তুমি কি আসবে?আমাদের কাছের মানুষ বলতে এখন শুধু তুমি।মেঠো পথের দুই ধারে সবুজ আর সবুজ।এখানে কারেন্ট একেবারেই থাকে না। কিছুক্ষণ সময়ের জন্য আসে।আবার চলে যায়।মানুষ এখানে হারিকেন অথবা কুপি বাতি জ্বালায়।অবশ্য কিছু বাড়িতে চার্জার লাইট এসেছে তবে তা হাতে গোনা।এখানে কোলহল কম।নিস্তব্ধতা যেন চারপাশ ঘিরে রেখেছে।সন্ধা হলে জোনাকির আলো চারিদিক ছেয়ে যায়।ঝিঁ ঝিঁ পোকাগুলো ডাকতে থাকে।আমি আর মৌমিতা বারান্দায় বসে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যখন চাঁদের আলো এসে আমাদের গায়ে পরে,আমি আর মৌমিতা কিযে উপভোগ করি।শহরে এসব কই।আসবে কি তুমি?
তুমি আসলে আমাদের ভালো লাগবে। মৌমিতার জন্মদিনে এসো।
ইতি
আবির ও মৌমিতা।
২০/৯/১৭

চিঠিটা কিন্তু আজই পোস্ট করো কেমন মৌমিতা বলে উঠে।
আবির বের হচ্ছিল। আচ্ছা, বাজার থেকে আসার পথে পোস্ট করবো আবির এই বলে বের হয়ে যায়।
আবির চলে গেলে মৌমিতার সময় যেনো কাটতে চায় না। ভীষণ একা লাগে। তখন একমাএ লাইব্রেরিই তাঁর সঙ্গী। এক কাপ চা নিয়ে লাইব্রেরির দিকে রওনা হলো মৌমিতা।

জায়ানের অফিসের কাজ শেষ করতে করতে বেলা তিনটা বেজে গেছে।চারটায় গাড়ি।বাসায় গিয়ে কোন রকমে ব্যাগ গুছিয়ে মধুপরের দিকে রওনা দিলো। মৌমিতার জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতে হবে।
আবির আর মৌমিতা ওর খুবই কাছের বন্ধু। কলেজের সেই প্রথম দিন থেকে সে মৌমিতা কে ভালোবাসে।কিন্তু মৌমিতা আবির কে ভালোবাসে।জায়ান তাই ওদের দুজনের পথ থেকে সরে এসেছে।ওর খুব কষ্ট হলেও সে চুপ করে ছিলো।কখনও তার ভালোবাসা কাউকে জানতে দেয় নি। আজ সে যাচ্ছে একটি বার মৌমিতা কে দেখার জন্য।মৌমিতাকে দেখার জন্য তার ভিতরের যে তীব্রতা তা আজ যেনো নতুন করে ডাকছে ।একবার সে ঐ মুখখানা দেখার জন্য ছটপট করতে থাকে। অনেক দিন সে মৌমিতাকে দেখে নি। একটি বার সে ঐ মুখখানা দেখতে চায়। এসব ভাবতে ভাবতে জায়ানের তন্দ্রা চলে এসেছিলো।
হঠাৎ গাড়িটা যেনো জোরে ব্রেক করলো । কি হলো যাএীরা সবাই চিৎকার করে উঠলো
কোথায় এটা?
বান্দরবন চলে এলো কি?
কয়টা বাজে জায়ান ঘড়ি দেখলো রাত ১টা।কি হলো?
হঠাৎ কয়েকজন লোক হাতে লাঠি দাঁ নিয়ে গাড়িতে উঠে পরলো।এরা ডাকাতি করে।এর রাতের বেলা রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।গাড়ি থেমে গেলে গাড়িতে উঠে ডাকাতি করে।লোকগুলো সবাই কে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। যার কাছে যা পাচ্ছে সব নিয়ে যাচ্ছে। জায়ান এর কাছে মৌমিতা আর আবিরকে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু টাকা আছে। টাকা গুলো তার প্যান্ট এর পকেটে।আজই সে ব্যাংক থেকে উঠিয়েছে।
দুইজন লোক জায়ানের সামনে এসে দাঁড়ালো।লোকগুলোর মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা।জায়ান সামনের লোকটার দিকে তাকালো পরনে সবুজ গেঞ্জি আর কালো প্যান্ট।হাতে দেশী দাঁ। তারমানে এরা স্থানীয় লোকজন।জায়ান পিছনে লোকটাকে দেখতে পারছেনা।

কি আছে বের কর সামনের লোকটা বলে উঠল
আমার কাছে কিছু নেই ভাই জায়ান বলে,
এতদূর থেকে বেড়াতে আসছস খালি হাতে আসছস?বলেই জায়ানের গালে একটা চড় মারে।
জায়ানের মাথাটা ঘুরে উঠে।জায়ান গালে হাত বুলাতে বুলাতে বলে, সত্যি ভাই আমার কাছে কিছু নাই।
এই সব ধানাই পানাই বাদ দিয়া টাকা বের কর। নইলে তোর খবর আছে।বলেই লোকটি আবারো জায়ানের গালে আরেকটা চড় দেয়।
টাকা কেমনে বাইর করতে হয় তা আমগো জানা আছে।বলেই লোকটি হেড়ে গলায় ডাকে
জমির, জমির, ,,
এই পোলার পোশাক আশাকে কয় ওর কাছে মাল আছে।এহন মিছা কতা কইতাছে।ওরে গাড়ি থাইকা নামা।
পিছনের লোকটি জায়ানকে জাপটে ধরে। তারপর টেনেহিচড়ে গাড়ি থেকে নামায়।লোকটি জায়ানের পিঠ বরাবর সজোরে একটা লাথি মারে।জায়ান হুমরি খেয়ে রাস্তায় পরে যায়।
জায়ানের নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে।উঠে দাঁড়াতে তার কষ্ট হচ্ছে।তারপর ও সে উঠে দাঁড়ায়।বলে আমার কাছে কিছু নাই, আমাকে ছেঁড়ে দেন।।কয়েকজন লোক তাকে ঘিরে রেখেছে।ওদের হাতে গাছের ডাল।
হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন গাছের ডাল দিয়ে জায়ানের মাথায় সজোরে আঘাত করে।জায়ানের মুখ দিয়ে একটা চাঁপা আর্তনাদ বের হয়।জায়ান মুখ থুবরে মাটিতে পরে যায়।অন্ধকার তার চোখে নেমে আসে। আপনা আপনি তার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। চারদিক কেমন নিঃসচুপ। দূরে নাম না জানা কোন নিশাচর পাখি করুন সুরে ডেকে উঠে।

জায়ান কতক্ষণ মাটিতে পরে ছিলো তাঁর হিসেব নেই।দাঁড়াতে গিয়ে বুঝলো তার মাথাটা ঘুরছে।কয়টা বাজে সে ঘড়ির দিকে তাকালো।অন্ধকারে কিছু বুঝা যাচ্ছিল না।সে উঠে বসে।সারা শরীর তার ব্যাথা।মাথায় হাত বুলালো জায়ান।রক্ত জমে আছে।কোথাও কেউ নেই।চারিদিক কেমন নিরব হয়ে আছে।বাসটা নেই।কোথাও কেউ নেই। সবাই ওকে ফেলে চলে গেছে।মানুষ এইরকম কেনো।বুকের ভীতরটা কেমন হু হু করে উঠলো।একটু পানি পেলে হাত মুখটা ধোঁয়া যেতো।গলাটা কেমন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।একটু পানি খুব দরকার।সে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো।
জায়ান উঠে দাড়ায়।শেষবারের মত যেখানে পরে ছিলো সেই জায়গাটার দিকে তাকায়।কিছু কি পরে আছে?
পরে থাকুক। এখন আর কিছু আসে যায় না।।।

জায়ান হাঁটা করে শুরু করে। এই বিশাল বনভুমির রাস্তায় সে একা।
একা একাই হাঁটছে।তার পা দুটো টলমল করছে।সে হাঁটছে।মাথার উপর বিশাল একখানা চাঁদ।গাছপালার আড়াল থেকে কেউ হয়তো তাকেই দেখছে। ঝিঁ ঝিঁ পোকাগুলো ডাকছে। কেমন নিরব চারদিক।
কি বিশালতা। বনভূমি বুঝতে হলে রাতে বনভূমিতে আসতে হয়। এইরকম পরিস্থিতিতে না পরলে জায়ান বুঝতেই পারতো না। বনভূমি এত সুন্দর হয়। রাত এত সুন্দর হয়। বিশালতা ও অনুভব করা যায়।
কোন এক রাত জাগা পাখি মাথার উপর দিয়ে উড়ে চলে গেলো।নীড়ে ফিরছে মনে হয়।।
ঘর…..
ঘরে ফিরতে হবে।মা অপেক্ষা করছে।আসার সময় বলে আসে নাই।একটা চিরকুট লিখে এসেছিল। কি করছে মা এখন।কেমন জানি মন খারাপ হচ্ছে জায়ান এর।
সে হাটা শুরু করে।
আবির আর মৌমিতার বাড়ি যাবে।কতদূর।আর কতদূর।।।।
সে হাটছে।চাঁদের আলোয় পুরো রাস্তা জুড়ে।চারপাশে বিশাল বিশাল গাছপালার আলো আধারির ছায়া খেলা। জায়ান কখনও রাতের এই অপুরূূপ দৃশ্য দেখে নাই। সে শহরের কোলাহলময় সান্ধ্যনগরীতে তার বসবাস। এই রকমের পরিবেশ সেখানে কোথায়। জায়ান মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখছে আর উপভোগ করছে।
আজ কি পূনির্মা।কি সুন্দর জোছনার আলো। সামনে মনে হয় কোন নদী।চাঁদের আলোয় নদীরজল ঝিকিঝিকি করছে।জায়ান নদীর তীরে গিয়ে বসে।নদীতে শাপলা ফুল ফুটে আছে।নদীর শীতল বাতাস। জায়ানের মন উদাস হয়ে যায়।আহা কি সুন্দর।
জায়ানের খুব মৌমিতার কথা মনে পরছে।আমার কথা কি একটি বার ভাব, মৌমিতা।
কেমন অভিমান হচ্ছে,জায়ানের।।
বুকের ভিতর কোথায় যেনো চিন চিন ব্যাথা করছে।মৌমিতা আমার ভালোবাসাটা একটু যদি বুঝতে।তুমি অন্য কারো হতে না।অভিমানে চোখের কোনে জল জমছে জায়ানের……
জায়ান নদীজলে হাতমুখ ধুয়ে নেয়।কি মনে করে যেন একটা শাপলা ফুল ছিড়ে পকেটে রেখে দেয়।।।।
হঠাৎ তার মনে পরে এটা কি কুহেলী নদী!!!
আবির লিখেছিলো এই নদীর কথা চিঠিতে।জায়ান উঠে দাড়ায়, ভালো করে চারদিক লক্ষ করে।
চাঁদের আলোয় সে সামনে দেখে একটা গ্রাম।সে গ্রামে ঢুকার কাচা রাস্তা টা খুঁজতে থাকে।সামন্য খুঁজতেই পেয়েও যায়। সে গ্রামে ঢুকে দোতালা বাড়িটা খুজতে থাকে।হঠাৎ গাছপালার ফাঁক দিয়ে সামনে উচু একট বাড়ির অবয়ব চোখে পরে।জায়ানের শিরদাঁড়া বেয়ে যেনো একটা ছোটখাটো শিহরণ বয়ে গেলো।মনটা খুশিতে ভরে উঠে।
মৌমিতার বাড়ি।।
আহ এত আকুলতা, এত তীব্রতা মৌমিতাকে দেখার জন্য জায়ানের আগে কখন ও এমন হয় নাই।হয়তো এই পরিবেশ, অবস্থান সব দায়ী।
জায়ান আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে এগুতে থাকে।।

জায়ান বাড়ির ফটকের সামনে এসে দাড়ায়। কি বিশাল কাঠের দরজা।জায়ান জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে।
আবির, মৌমিতা……
আবির….কেউ কি আছো ?
বাড়িতে কেউ আছেন?
জায়ান চিৎকার করে ডাকতে থাকে,
হঠাৎ উপর থেকে ছেলে কণ্ঠ ভেসে আসে।
কে?
কে এত রাতে?
কে?
আমি জায়ান, আবির…..
দরজা খোল, আবির
জায়ান তুই এত রাতে। দাঁড়া আসছি।
একটু পর আবির দরজা খোলে…
জায়ান এত রাতে তুই।আবির বলে উঠে।
বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবি, না ভিতরে ঢুকতে দিবি।জায়ান বলে উঠে
আয়, আয় ভিতরে আয়।
মৌমিতা,
মৌমিতা দেখো, কে এসেছে। আবির চিৎকার করে বলে উঠে।
মৌমিতা আবিরের পাশে এসে দাঁড়ায়, আরে জায়ান যে।।
জায়ান মৌমিতার দিকে তাকায়।তার মন যেনো জুড়িয়ে যায়।এত মায়াবী মুখখানা। দু’চোখে এত গভীরতা।সে এই গভীরতায় হারাতে চেয়েছিল ।কিন্তু ভাগ্য তাদের এক হতে দেয় নি।
মৌমিতার মুখখানা একটু ছুঁতে ইচ্ছে করছে জায়ানের।
হাতটা ধরে নদীর তীরে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে ।
যাবে আমার সাথে,,,, মৌমিতা…
তোমার হাত ধরে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়াবো।জায়ান মনেমনে বলে। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায় তাঁর।
ভাবে এই মুখের দিকে তাকিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।জায়ান তাকিয়েই থাকে।।
হঠাৎ মৌমিতা লক্ষ করে জায়ানের সারা শরীরে রক্ত আর কাদা।মুখটা ও রক্তাভ । চোখটা ও লাল হয়ে আছে।
কি হয়েছে জায়ান।এই অবস্থা কেনো?
আবির ও লক্ষ করে।কিরে কী হয়েছে?
দাঁড়া ,আগে বসতে দে তারপর বলি।জায়ান বলে
তাইতো, তাইতো, বস। এখানে বস।চেয়ারটা এগিয়ে দেয় আবির।
গাড়িতে ডাকাত উঠেছিলো রে । তারাই এই অবস্থা করেছে।।
বাদ দে।কি আছে? কিছু খেতে দে আগে, জায়ান বলে
কি খাবে বল।আমি তৈরি করছি।মৌমিতা বলে।
একটা কিছু হলেই হলো ,জায়ান মৌমিতার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে
মৌমিতা শিহরে উঠে।কেমন ভাবলেশহীন জায়ানের চোখ। চোখের নিচের কালসিটে দাগগুলো ভয়ংকর লাগছে। মৌমিতা চোখ সরিয়ে নেয়।
আবির, জায়ান কে উপরের রুমে নিয়ে যাও, এই বলে
মৌমিতা খাবারের আয়োজন করতে উঠে যায়।
আয়, উপরে আয়,তোর রুম দেখিয়ে দেই।ফ্রেস হয়ে নে তারপর নিচে খেতে আয়।এখানে আমার জামা কাপড় আছে। তোর যেটা লাগবে, নে। তোরগুলা বদলে ফেল।আমি নিচে গেলাম। আবির এই বলে চলে যায়।
জায়ান পুরো রুমটা দেখতে লাগলো।খুব সাধারণ একটা রুম।কিন্তু রুমের ভীতর মৌমিতার ছোঁয়া আছে।জায়ান বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। তীব্র ক্লান্তিতে তাঁর চোখ বন্ধ হয়ে আসে।
আবির জায়ান কে ডাকতে এসে দেখে জায়ান ঘুমিয়ে গেছে।ঘুমন্ত বন্ধুর মুখ দেখে আবিরের কেমন মায়া হয়।
আহারে বেচারার অনেক কষ্ট হয়েছে। গায়ে হাত পায়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আহারে।
থাক ঘুমাক, পরে কথ বলা যাবে।।
দরজাটা ভিড়িয়ে দিয়ে আবির চলে যায়।

জায়ান পুরো বাড়িতে হাঁটছে।অন্ধকার, তারপর ও সে সব দেখতে পাচ্ছে। তার চোখ জ্বলজ্বল করছে। কেমন ঘোরের মতো সে হাঁটছে। যেনো একটা অশরীরী হাঁটছে। মৌমিতার ঘরে যাবে।তার হাতে সময় খুব কম।ভোর হয়ে আসছে। মৌমিতা কে একটা কথা বলা দরকার। যেটা সে কখনও বলেনি। এটাই মৌমিতার ঘর।।।
জায়ান মৌমিতার ঘরে ঢুকে।ওই তো মৌমিতা শুয়ে আছে।খাটের একপাশে মৌমিতা আর আবির অন্য পাশে।
জায়ান খাটের পাশে এসে দাঁড়ায়।ঘুমন্ত মৌমিতাকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। সে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকে। মৌমিতাকে তার একটু ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। জায়ান ঘুমন্ত মৌমিতার কপালে একটা চুম্বন এঁকে দেয়।কুহেলী নদী থেকে আনা শাপলা ফুলটা গুজে দেয় মৌমিতার এলোমেলো চুলগুলোতে। অপলক চেয়ে থাকে কিছুক্ষন।নিজের অজান্তেই যেনো বের হয়ে আসে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস। জায়ান মৌমিতার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসকরে বলে,
ভালোবাসি মৌমিতা। তোমাকে বড় বেশি ভালোবাসি। সূর্য উঠি উঠি করছে। সময় নেই।
তারপর জায়ান আস্তে করে বের হয়ে যায় রুম থেকে।

সকালবেলা আবির জায়ানের রুমে এসে দেখে,কেউ নাই! জায়ান কোথাও নেই। না বলে চলে গেলো !
কোথাও কেউ নেই !!
আবির মৌমিতার রুমে যেয়ে দেখে মৌমিতা ঘুমাচ্ছে।তার এলোমেলো চুলে একটা শাপলা ফুল।
কোথা থেকে এলো এটা !!

তিনদিন পর,
আবিরের নামে একটা চিঠি এসেছে।আবির আর মৌমিতা বারান্দায় বসে আছে।আবির মৌমিতাকে চিঠি পড়ে শোনায়…..

প্রিয় আবির,মৌমিতা
ভালোবাসা নিও। তোমাদের একটি চিঠি পেলাম। তোমাদের চিঠি থেকে তোমাদের ঠিকানা পেয়েছি। যাই হোক, তিনদিন আগে জায়ান তোমাদের সাথে দেখা করার জন্য বের হয়েছিলো।পথে তাদের গাড়িতে ডাকাতি হয়।ডাকাতরা জায়ানকে মেরে রাস্তায় ফেলে যায়।পরেরদিন পুলিশ জায়ানের লাশ পায়।জানা যায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এর ফলে জায়ানের মৃত্যু হয়।কাল জায়ানের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হবে।পারলে এসো।জায়ান তোমাদের খুবই ভালোবাসতো।
ইতি
জায়ানের মা

আবির চিঠি হাতে নিয়ে সেখানেই বসে পরে।মৌমিতা, সেইদিন জায়ান এসেছিল!
মৃত্যুর পরও ছায়া হয়ে এসেছিলো।
আবিরের চোখবেয়ে অঝোরে জল পরতে লাগলো।
মৌমিতা উঠে দাঁড়ায় কোন কথা বলে না। টেবিলের উপর বইয়ের ভীতরে রাখা শুকনো শাপলা ফুলটা হাতে নেয়।তার কি কিছু মনে পরে যায়।কিছু পুরনো কথা,যা নতুন করে ভাবায়।চোখের কোনে চিকচিক করে জল।।।।
অব্যক্ত ভালোবাসাগুলো এমনই নয়। প্রকাশ পায় না। হারিয়ে যায় কিন্তু অসীমের সীমানায় থেকে ও বারবার ভালোবাসা গুলো কে ছুঁয়ে যায়।।
ছোঁয়া কি সহজেই যায় একমাএ অসীমতায় তাকে ছুঁতে পারে। হয়তো ছায়া হয়ে।।।

সমাপ্ত। ।

বীথি আক্তার

About moktokotha

Check Also

ঠগী কাদের বলে?

আপনারা কি জানেন ঠগী কাদের বলে? ঠগীরা ১৩ থেকে ১৯ শতকে বাংলায় এবং উত্তর ভারতে …

2 comments

  1. অসাধারণ, একদম অসাধারণ একটা গল্প 😍😍😍

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *