Monday , May 20 2019
Breaking News
Home / ক্রিকেট / ব্যাঙ্গালুরু বনাম হায়াদ্রাবাদ

ব্যাঙ্গালুরু বনাম হায়াদ্রাবাদ

 

 

টি টুয়েন্টি আসরের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ। যা ক্রিকেট বিশ্বে সংক্ষিপ্ত আকারে আইপিএল নামে খ্যাত। আইপিএল-২০১৯ এর আজকের দিনের দুই ম্যাচের প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মুখোমুখি হয় সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ।

 

প্রথম দুই ম্যাচ না খেলে শুধুমাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলা হায়াদ্রাবাদ ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন খেলেননি আজকের ম্যাচও।

 

অপরদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে আইপিএল এ ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে অভিষেক হয়েছে সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের। মাত্র ১৬বছর ১৫৭ দিন বয়সী প্রয়াস রায় বর্মন এর অভিষেকের মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় আইপিএল এর  আগের কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড।  এর আগে ১৭বছর ১১দিন বয়সে আইপিল এ অভিষেক হয়েছিলো আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের।

 

টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্তটা যে কত বড় ভুল ছিলো ম্যাচ হেরে সেই ভুলের মাশুল গুনেছেন ব্যাঙ্গালুরু।

 

টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ব্যাঙ্গালুরু ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি। তাই নিয়ম মেনে ব্যাটিংয়ে যায় হায়াদ্রাবাদ। ব্যাটিংয়ে ওপেন করতে আসেন সেই চেনা দুই ওপেনিং পার্টনার। ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারেষ্ট এবং হায়দ্রাবাদের জগৎ দুই আসরের সাবেক ক্যাপ্টেন ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের প্রাণভোমরা ডেভিড ওয়ার্নার। শুরু থেকেই মারমূখী আগ্রাসী ভূমিকায় ছিলো দুই ওপেনার প্রথম পাওয়ার প্লেতেই দুজন মিলে তুলে নেয় ৫৯ রান। প্রথম পাওয়ার প্লের পরে অবশ্য বেশী আগ্রাসী দেখা যায় জনি বেয়ারেষ্টকে ডেভিড ওয়ার্নারও কম আগ্রাসী ছিলোনা কোনো অংশে। মাত্র ৯ ওভারেই পার করে ফেলেন দলীয় ১০০ রানের গন্ডী। আর তাতেই এই আসরে তৃতীয় বারের মতো সেঞ্চুরী পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়লেন এই দুই ওপেনার। দলীয় শতকের পর আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেন দুজন বিশেষ করে জনি বেয়ারেষ্ট ১৭তম ওভারের ২য় বলে দলীয় ১৮৬ রানে চাহালের বলে উমেশ যাদবের তালুবন্দী হয়ে আউট হয়ে যান ইংলিশ তারকা জনি বেয়ারেস্ট। যাওয়ার আগে অবশ্য তুলে শতক। মাত্র ৫২ বলে শতক হাঁকান এই তারকা। আউট হওয়ার সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিলো ১১৪ রান। মাত্র ৫৬ বল খেলে তিনি ১১৪ রান সংগ্রহ করেন। যার মধ্যে ছিলো ৭টি ছক্কা ও ১২টি চারের মার। মাত্র তিন বল খেলে ৯ রান করে ১৭ তম ওভারের ৩য় বলে রান আউটের শিকার হন বিজয় শঙ্কর। বিজয় শংকর এর বিদায়ের পর বাকি ওভারগুলো অজি তারকার সাথে খুব ভালোভাবেই কাটায় ইউসুফ পাঠান। এসময় তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ বলে ২৯ রানের একটি ছোট্ট ক্যামিও পার্টনারশীপ হয়। আইপিএল শিরোপজয়ী অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ওপেনিং থেকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ছিলেন ক্রিজে। এবং তুলে নেন এই আসরের নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। মাত্র ৫৫ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রানে মাঠ ছাড়েন এই দুর্ধর্ষ ওপেনার। আর তাতেই ২৩১ রানের একটা পাহাড় দাঁড় করিয়ে ২৩২ রানের একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় হায়াদ্রাবাদ।

 

অভিষিক্ত প্রয়াস রায় বর্মন ছিলো সবচেয়ে খরুচে বোলার প্রথম ওভারে মাত্র ৬রান দিলেও দ্বিতীয় ওভারে এসে দেন ১৮রান তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ওভারে দেন ১২ রান। এবং নিজের কোটার শেষ ওভারে দেন ২০রান। আর তাতেই তার নিজস্ব ৪ওভার শেষ হয় ৫৬রান খরচায়। তুলে নিতে পারেননি কোনো উইকেট। তাই একটা বাজে অভিষেক হয়েছে তার এটা বলতে কোনো সমস্যাই হয়না।

 

উমেশ যাদব ও চাহালও ছিলো বেশ খরুচে। ৪ ওভার বল করে ৪৭রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি উমেশ যাদব। চাহাল ৪ ওভার বল করে ৪৪রান খরচায় ব্যাটিং দানব জনি বেয়ারেস্ট এর উইকেটটা তুলে নেন।

 

২৩২ রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই হোঁচট খেয়ে ব্যাঙ্গালুরু। ২য় ওভারের শেষ বলে আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর বলে মানিস পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরে যান উইকেটকিপার পার্থিব প্যাটেল। ৪র্থ ওভারের ১ম বলেই আবার ব্যাঙ্গালুরু শিবিরে আঘাত হানেন মোহাম্মদ নবী। এবারে বেয়ারেস্টোর স্টাম্পিংয়ের শিকার হন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা সিমরন হেটমায়ার। দলীয় ২০রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে কাঁটা গাঁয়ে নুনের ছিটা লাগে এবিডি ভিলিয়ার্সের উইকেট হারিয়ে। মোহাম্মদ নবীর স্পিন বল ঠিকমতো না খেলতে পেরে বোল্ড হয়ে যান বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান। ব্যাঙ্গালুরুর আশার প্রতীক হয়ে উইকেটে থাকা বিরাট কোহলিও সবাইকে চমকে দিয়ে ৭ম ওভারের ১ম বলে সন্দ্বীপ শর্মার বলে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। বরাবরের মতো আজকেও ব্যার্থ ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী। ৮ম ওভারে নিজের কোটার শেষ ওভার বল করতে আসা মোহাম্মদ নবী চমকে দিয়ে তুলে নেন শিভাম ডুবির উইকেটটা। নিজের কোটার ৪ ওভার বল করে ১১রান খরচায় তুলে নেন মহামূল্যবান ৪টি উইকেট। আইপিএলের এই আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই বোলিংয়ে বাজিমাত করলেন এই আফগান অলরাউন্ডার। বোলিংয়ে ব্যার্থ অভিষিক্ত প্রয়াস রায় বর্মন ও কোলিন ডি গ্র্যান্ডহোম মিলে ম্যাচ বাঁচানোর ব্যার্থ চেষ্টা করলেন। প্রয়াসের ব্যাক্তিগত ১৯ রান ছিলো ব্যাঙ্গালুরু ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এবং কলিনের ৩২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় করা ৩৭ রানই হলো আজকের ম্যাচের ব্যাঙ্গালুরুর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। উমেশ যাদব, চাহাল কেউই টিকতে পারেনি বেশিক্ষণ। ২০তম ওভারের ৫ম বলে সন্দ্বীপ শর্মার আঘাতে চাহালের বিদায়ে অল আউট হয় ব্যাঙ্গালুরু। ৩ওভার ৫ বলে ১৯ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেয় সন্দ্বীপ শর্মা। বরাবরের মতো উইকেট তুলতে ব্যার্থ হয়েছেন হায়াদ্রাবাদ ক্যাপ্টেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৪ ওভার বলে করে ২৫রান খরচ করে আজকেও উইকেট শূন্য ছিলো ভারতীয় এই পেসার।

 

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ঘরের মাটিতে নাকানী চুবানী খাইয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে।

 

ফলাফল: ১১৮রানে জয়ী সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ।

 

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: জনি বেয়ারেষ্ট।

 

 

আজকের দিনের অন্য ম্যাচে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে লড়ছে রাজস্থান রয়্যালস।

About মুক্তমনা

কিছুই কমুনা। লাগলে কষ্ট করে জেনে নিবেন। একটু চেষ্টা করেন সব জানতে পারবেন।

Check Also

রাজস্থান বনাম পাঞ্জাব

আজকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ-২০১৯ইং এর চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামে তারকাবহুল দুই টিম। দু দলই এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *