Tuesday , July 23 2019
Breaking News
Home / শিক্ষা মূলক / গল্প / এক রাখালের গল্প

এক রাখালের গল্প

এক রাখালের জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী
১ম খণ্ড
এক রাখাল প্রতিদিন মাঠে গরু চরাত। তার তিন কুলে আপন বলতে কেউ ছিলনা। কিন্তু একদিন সে মাঠে গরু চড়াতে গিয়ে দেখতে পায় মাঠে ছোট্ট একটি ছিদ্র। আর ওই ছিদ্র দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সে অবাক হয়ে যায় এবং ভাবতে থাকে এটা কি করে সম্ভব। এটা এক আল্লাহর লীলা ছাড়া কিছুই না। আর এই রহস্য বের করার জন্য সে উতলা হয়ে যায়। সেই দিন থেকেই তার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। সে একেবারে পাগলপ্রায়। তার মুখে প্রায় একটি কথাই শোনা যায়।
সেটি হল, ছিদ্র দিয়ে ধোঁয়া বেরোলে সেই ধোঁয়ায় কি আল্লাহ মিলে।
এই কথার মানে হলো, মাঠে যে ছিদ্রটি দেখা গিয়েছিল তা থেকে তো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আর ওই ধোঁয়ার রহস্য বের করার জন্য কি আল্লাহর সাক্ষাৎ পাবে সে।
আর এমন কল্পনাই তার মনে। সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। আর লোকের কাছে প্রশ্ন করে, ছিদ্র দিয়ে ধোঁয়া বের হলে সেই ধোঁয়ায় কি আল্লাহ মিলে।
লোকজন তার কথা শুনে অবাক হয়‌। আর তাকে পাগল বলে গ্রাম থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।
সে পাগল বেশে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। এভাবে প্রায় সাত বছর অতিবাহিত হয়।
একদিন সে হাঁটতে হাঁটতে এক গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সে দেখতে পায়, এক সাধু বাবা (দরবেশ) একটি বটগাছের নিচে বসে আল্লাহর জিকির করতেছে। তার পা বড় বড় গাছের শিকড়ে আটকে গেছে। তার সারা শরীরে। মাথায় পাখিরা মূত্র ত্যাগ করেছে। এই অবস্থা দেখে কেউই তার সামনে যাবে না। সবাই ঘৃনা করবে। কিন্তু পাগল এটি দেখে ও সাধু বাবাকে (দরবেশ) দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে। আর বলতে থাকে, ছিদ্র দিয়ে ধোঁয়া বেরোলে সেই ধোঁয়ায় কি আল্লাহ মিলে।
সাধু বাবার(দরবেশ) ধ্যান ভেঙ্গে যায়। পনেরো বছর সে ধ্যান করেছে অথচ কেউ তার ধ্যান ভাঙতে পারেনি। কিন্তু এই পাগল আবার কেমন পাগল। সে তো প্রচণ্ড রেগে যায় পাগলের উপর।
___বলুন বাবা, আমার প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি তো আল্লাহকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। আর বহু বছর আপনি আল্লাহর ধ্যানে আছেন। আপনি পারবেন এর ব্যাখ্যা দিতে।
___সে নিজের রাগ সংযত করে। এবং বলে, ছিদ্র দিয়ে ধোঁয়া বেরোলে সেই ধোঁয়ায় অবশ্যই আল্লাহ মিলে।
____ আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে চাই। এখনই
সাধু বাবা (দরবেশ) মহা চিন্তায় পড়ে যায়। সে পাগল কে বলে তুমি যদি আমার কথা রাখতে পারো তাহলে আমি তোমার সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করে দেবো।
পাগল তো মহা খুশি। সাত বছর পর তার আশা পূর্ণ হতে চলেছে।
__কি কথা রাখতে হবে আমাকে বলুন? আমি এখনই তা পালন করব।
___উত্তরপ্রদেশে এক রাজা আছে‌। তার একটি মাত্র কন্যা। সে অত্যন্ত সুন্দরী। রাজ্যের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলেও রাজা তা গ্রহণ করে না। কারণ সে তার মেয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে এখনো পর্যন্ত পায়নি। তুমি যদি তাকে বিবাহ করতে পারো। তাহলে অমি আল্লাহর সাথে তোমার সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করব।
পাগল তৎক্ষণাৎ সাধু বাবার (দরবেশ) কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজার রাজ্যে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। সে উত্তর প্রদেশের রাজ্যে যায়।
সে প্রজাদের কাছে গিয়ে বলে আমি জাহাপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। আমাকে একটু রাজদরবারে যাওয়ার সুযোগ করে দিন। কেউ তার কথায় কান দিল না। সে তো পাগল সারা গায়ে ময়লা, চুল ,দাড়ি অনেক বড় বড়, জামা কাপড় একেবারেই ছিড়া। এ রকমের অবস্থায় কেউ কি তাকে রাজ দরবারে প্রবেশ করতে দিবে। উল্টো তাকে সবাই মেরে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।

___পাগল চিৎকার করে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে আমি জাহাঁপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। আমাকে তোমরা মেরো না। আমাকে তার সাথে সাক্ষাত করার একটি সুযোগ দাও। সে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তার চিৎকার শুনে পুরো রাজ্যের মানুষ একসাথে জড়ো হয়। মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়।
,___কি হয়েছে তোমার! তোমার সমস্যার কথা আমাকে নির্ভয়ে বলতে পারো। আমি সমাধান করার চেষ্টা করব।
___আমি জাহাঁপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।
,___কেন কি হয়েছে তোমার?
__আমি জাঁহাপনার একমাত্র কন্যার বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।
__সে একটু হাসলো, ও এই কথা, কোথায় সেই রাজপুত্র।
__আমিই সে রাজপুত্র,
কথাটা শুনে মন্ত্রী খুবই রেগে যায়। পাগলকে বের করে দেওয়ার জন্য রওনা হয়। পাগল আবার চিৎকার করতে থাকে। মন্ত্রী বাধ্য হয়ে জাহাঁপনাকে খবর দেয়।

চলবে………….

সাথী।

About Bithi Sultana

Check Also

ঘুঘু ও ফাঁদের গল্প

ঘুঘু ও ফাঁদ দুই ভাই। কিন্তু দুই ভাই হলে কী হবে!তাদের মধ্যে ‘সাপ ও বেজির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *